সহস্রদিন পরে সহসা এক শান্ত বিকেলের পরে অসীম নীলটা একটু একটু করে আবার ক্রমশ গোধূলিতে রক্তজবা হয়ে ওঠে। আবছাতটে প্রশ্ন লাইন টেনে দেয়- অজানা কিংবা দৃষ্টিসীমার বাইরে তারা কিংবা মেঘদের ছাড়িয়ে কখনও, আমায় আসলে কতটুকু চেনো? বিষন্ন আভায় চেয়ে নদীর জল সোনালি হয়ে ওঠে। আর উত্তরের অভাবে অবশেষে রাত্রি নেমে আসে গলে যাওয়া সূর্যমিশ্রিত ঢেউতে।
এইপারে দ্বিমাত্রিক সীমাবদ্ধতায় আটকে হঠাৎ পথটা খেই হারিয়ে ফেলে ভুলে যাওয়া সঠিক দিকের খোজে। ক্রমশ সরু হয়ে যাওয়া দুই ধার যখন উভয়দিকেই মিশে যায় একে অন্যে, ঠিক তখনই দিশেহারা লক্ষ্য লক্ষ করে নিথর পদচিহ্নের অসাড়তায়। যেখানে রোদ, ধূলো কিংবা উত্তরপ্রজন্ম আস্তে আস্তে লেপে যাচ্ছে প্রশ্নটা, পূর্বনির্ধারিত কিংবা ভাগ্যবিবর্জিত গন্তব্যের বাইরে আমায় কতোটুকু চেনো? পথের দুপাশে হয়তো পথ থাকেনা, হয়তো থাকেনা পথিকের দৃষ্টি কিংবা গন্তব্যের কোনো পরিসীমাও। এবং নিরুত্তর চাহনি প্রচলিত পথ ছেড়ে পথ তৈরি করতে থাকে তার মধ্যে নিশ্চুপ পদচারণায়।
রাত্রির আকাশ সঙ্গ দিয়ে যায় সেথা তারা আর আবছা মেঘের ফাঁকে বয়ে চলা মহাশূণ্যতা নিয়ে। জোছনাকে এড়ানোর উপায় খুজতে গিয়ে নিপতিত রাত্রির ছায়ায় বসে থাকে ঝিঁঝিঁর ডাক আর একটি প্রশ্ন, স্বপ্নলোক কিংবা এইসব অর্থহীন ফ্লোরোসেন্ট এর পৃথিবীর বাইরে আমাকে কতোটুকু চেনো? শতশত জগত টিমটিম করে জ্বলতে থাকে অবারিত আঁধারে উত্তরটা পাবার আশায় সন্দিগ্ধ জানালায়।
হৃদস্পন্দনের অবিন্যস্ত সাগরে ভাসতে থাকে এরকম কিছু নিষ্ক্রিয় প্রশ্বাসের উপস্থিতি সারা রাত জুড়ে মহাকাল থেকে মহাকালে। যতটা অপরিচিত হলে পাশাপাশি নিশ্চিন্তে হাঁটা যায়, ততটুকু বিশ্বাস নিয়ে সময়টা তিনভাগ হয়ে যায় একটি প্রশ্নে, স্মৃতিকাতর অতীত কিংবা নিয়তি নির্ধারিত ভবিষ্যত এর অস্তিত্বের বাইরে কতটুকু চেনো আমায়? বর্তমানটা সেখানে অনাহুত উপস্থিতির সাথে একাত্ম হয়ে নীরব হয়ে যায় কোনো এক উদীয়মান ঊষালগ্নে ক্রমশ। উত্তরটা নিশ্চিত করে তার অসংজ্ঞায়িত মুছে যাওয়া সেই সাথে ধীরে ধীরে, আর কোনো মৃত প্রশ্নের সম্ভাবনা না রেখে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন