শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২

বিড়বিড়-১


বহু আগে একবার একটি রাত্রি জাগতে চেয়েছিলাম।
কারণে-অকারণে নয়, ইনসমনিয়ায় নয়;
তরল জোছনা গলে পড়া নৈঃশব্দ্য দেখতে নয়, মিশে যেতে নয়।
বহুদিন আগে একটি রাত কাটাতে ইচ্ছে হয়েছিলো অপলকে-
ইচ্ছে হয়নি ছুঁতে হিমেল বাতাস, মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যা
নেমে আসে বৃষ্টির ফোঁটার মতো সশব্দে, সরোবরে।
বহুবছর আগের কথা, আমার জানলায় একটি রাত বন্দী ছিলো অসহায়।
সে ডেকে ওঠেনি মাঝরাত্রির পথহারা বাদুড়ের মতো, হয়তো জাগবো বলে;
কিন্তু আমি চাইনি সে নিঃশব্দে মরে যাক, মৃত হয়ে যাক।


অথচ আমার সেই রাত্রি জাগা হয়নি আজও, এখনও, এক মুহুর্তেও;
মৃত রাত্রিদের বধ্যভূমিতে বদলে গেছে জানলার কাচ-
মেঘ ছুঁয়ে আসা বাতাস নেমে আসার আগেই হারিয়ে গেছে গুমোট কুয়াশার জালে-
জোছনা নেই কোথাও পৃথিবীতে আজ, অথচ এ যেনো কেমন আঁধারশূন্যতা।
শুধু সবশেষে শূন্যদৃষ্টিতে কেবল একটি দৃশ্যায়ন আটকে থাকে স্থির-
সেখানে সিক্ত ঘাসের নীহারে একটি দিনের সূর্য জন্মাতে থাকে তারপর।

কোন মন্তব্য নেই: