বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১১

বুমেরাং


নির্বিকার নশ্বরতার নিস্তব্ধ ও নির্লিপ্ত এই নিশ্চিহ্নতায় নিঃশেষ হয়ে চলেছি নিবিড়চিত্তে। আমার অন্ধকার আকাশ আক্ষেপে আবিষ্ট হয়ে মিলিয়ে যায় আকাশগঙ্গার ঐ নীলাকাশকে ছাড়িয়ে, প্রচ্ছন্ন প্রতিসরণে যে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে চলেছে প্রভাকরের প্রক্ষেপে, এই প্রচলতি পৃথিবীকে প্রগাঢ়ভাবে। ধ্বংশাবশেষে ধ্বনিত ধূসর ধ্যানধারণাগুলো বাস্তবতার ধৃষ্টময় ধারালো ধিক্কারে ধূমায়িত হয়ে ধসে যাচ্ছে, ধীরে ধীরে ধূর্ত  মহাকালের ধুম্রজালে। অক্ষির অগোচরের অব্যক্ত অন্তঃকরণে অনুমিত অবিশ্বাসসমূহ, অপ্রাপ্তির অহমিকায় অবিশ্বাস্যভাবে অন্তরীত করে চলেছে অর্থহীন রাত্রির সব অনির্দিষ্ট কল্পনা।


ঝরেপড়া শিরোনামহীন পাতার শিরা-উপশিরা জুড়ে শীতল সমীরণ শোঁশোঁ শব্দে নিঃশর্তে শিরোচ্ছেদ করে চলে অবশিষ্ট সব শহুরে শিষ্টাচার, শাপমোচনের সাথে সাথে তাই সে আরও শূণ্যহয়ে শুকিয়ে যায় শীতের শিশুসুলভ শুভ্র বিশুদ্ধতায়।  চেতনার অবচেতন চোরাবালিতে পড়ে আচমকা চারিদিকে সচিত্র চিৎকার করতে থাকে আমার চেয়ে থাকা, সচেতন চৌপ্রহরকে চিরে চিরে। উদ্দীপনার নিরুদ্বেগ উচ্ছিষ্টে উচ্ছন্নে উপনীত হতে থাকে উদীয়মান উপক্রমণিকা, তার উপচে পড়া উন্মাদনার উত্তাল উচ্ছলতাসহ। ভঙ্গুর সব ভ্রান্ত বিভ্রান্তি দিকভ্রান্ত হয়ে ভেসে যায় ভুল পথে নির্ভুলভাবে, স্তম্ভিত কিংবা ভয়ংকর ভীত এ ভিতকে সাথে নিয়ে ভাড়ায় চালিত সব ভন্ডচিত্তের ভিড়ে।

প্রকট প্রত্যাশার প্রতিবিম্বে প্রতিষ্ঠিত প্রবঞ্চনার প্রলম্বিত প্রহার, প্রতিমুহূর্তে প্রলেপ দিয়ে চলে অপপ্রলাপের প্রহর থেকে প্রহরান্তরে। যুগপৎ যুক্তিহীন সব শিরার সংযুক্তি, যথারীতি অনুপযুক্ত রক্তে যথাযথভাবে নিযুক্ত করতে থাকে সকল প্রাপ্তির যাতনা। হয়তবা হৃত হৃদস্পন্দনে হরহামেশাই হন্যে হয়ে হাতড়িয়ে বেড়ায় হারানোর বিকল্প। এদিকে বাইরে বর্তমান বংশানুক্রমের বরাতে বারংবার আবর্তিত হতে থাকে আবহমান বদান্যতার বিবমিষায়, বাহ্যিক অবকাঠামোকে বর্বর বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বিবেকের বাহুল্য দংশন থেকে বিবর্জিত না করেই।

আর তাই আয়ত্তে কিংবা আয়ত্তের বাইরেও, আপন অস্তিত্বের আধারে আপাদমস্তক অস্তমিত হতে থাকে সকল  আত্মার আড়ম্বর আত্মবিসর্জন, আস্তে আস্তে।

কোন মন্তব্য নেই: