নাহ্, এই নিয়ে আজ এক্ষণে পাঁচবার শিফ্ট+ডেল দিলাম। ডকুমেন্ট হাওয়া। মরার আবহাওয়াটাই এমন। যাই চিন্তা করি, ঘুরে ফিরে সেই মেঘ, সেই বৃষ্টি, সেই আধো-আলো শান্ত-স্নিগ্ধ আবহ চলে আসছে মাথায় শেষে। গত কয়েকদিন ধরেই কিছু একটা লেখার চেষ্টা করছি। কি তা জানি না। এমনকি নিয়মিত লিখি যে তাও না। ডায়েরী লিখার অভ্যাসও নাই। মনে হয় লিখতে পারি কিনা শুধু সেটা দেখার জন্যেই এই বিফল প্রচেষ্টা। গোদের উপর বিষফোঁড়া না, কী-বোর্ডের উপর বৃষ্টি-ফোঁটা হয়ে বাগড়া দিচ্ছে মনোরোম এই বর্ষা। লিখতে গেলেই চোখ চলে যাচ্ছে জানলা টপকে ওইপাশে। আর এইপাশে আমি অন্ধ হয়ে মাউস সরিয়ে সরিয়ে অনড় অথবা অতিরিক্ত নড়বড়ে পয়েন্টার দিয়ে নিজেকে পয়েন্ট আউট করার বৃথা চেষ্টা করে যাই।
একটা নির্মাণাধীন অট্টালিকার দেহ ফুঁড়ে বের হয়ে আসা রডের কঙ্কাল। একটা নীলচে রঙ এর বিল্ডিং এর ব্যালকনিতে আটকে পড়ে একটা নাম না জানা ছোট্ট গাছের পাতা সমেত অহরহ নড়াচড়া, ঠিক পাখি খাঁচায় কিংবা অ্যাকুরিয়ামে মাছ যেভাবে মুক্তির জন্যে ছটফট করে সেভাবে। একটা অফিসিয়াল বিল্ডিং এর চিলেকোঠার পাশে অবিরাম বাতাসে ভেসে দুলে দুলে নাচতে থাকা লাল-সবুজ পতাকা কিংবা একটি দেশ। ধনুকের মতো বেঁকে চলা রেলপথের পাশে কাঁচাবাজারে উঁইঢিবির মতো ইতস্তত বিক্ষিপ্ত মানুষের জটলা। একটু পরপর সেখানে ট্রেন এসে এসে জটলাকে দুইভাগ করে দিয়ে যায়। আবার মিশে যায় প্রায় সাথে সাথে জটলাটা। ট্রেনের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট থাকে না। শুধু রেলপথটা দিগন্ত ছুঁয়ে পড়ে থাকে নির্লিপ্ত। চারপাশে অনেক ব্যস্ততা। ফুটপাতে চায়ের কাপে, রাস্তায় প্রাইভেটকার-বাসের শব্দে, জেনারেটরের হাঁসফাসে, কাঁচাবাজারের শ্রমিকের ঘামে, সরকারি অফিসারদের ঝিমুনিতে, রাস্তার পাশে ডাস্টবিন আর ইউরিনের ঝাঁঝালো গন্ধে, সড়কদ্বীপে হামাগুড়ি দিয়ে চলা শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিখারী কিংবা সমাজের সৃষ্ট অভিশাপের অনবরত গোঙ্গানিতে ইত্যাদি ইত্যাদি।
উপরের এই ক্যানভাসের সাথে আছে বৃষ্টি আর মেঘ, পুরোটা জুড়ে। এতটুকু ফাঁকা জায়গা নেই। এমনকি আমার জানালার কাচ ঘেঁষেও বৃষ্টি গোটা গোটা ফোঁটায় রূপান্তরিত হয়ে ড্যাব ড্যাব চোখে চেয়ে থাকে। বেশিক্ষণ পারে না। একসময় আপন ভারে ক্লান্ত হয়ে আঁকাবাঁকা পথে উল্লম্বভাবে কাচ বেয়ে নামতে থাকে। দেখে প্রথমে খুশি হই, একটু পরে উদাস হই। উদাস হয়ে চা খাই, কফি খাই, সিঙ্গাড়া খাই গরম গরম। বৃষ্টিকে সময় দেই ঝরে যাওয়ার জন্যে। বৃষ্টি ঝরে যায়। কিন্তু মেঘ সরে না। জানালার ফ্রেমে আটকে থাকে, ফুলতে থাকে, ক্রমশ আরও গাঢ় হতে থাকে। দাঁত কেলিয়ে হাসে। হাসতে হাসতে একটু পরেই আবার আচমকা বিষম খেয়ে কেঁদে ফেলে ঝরঝর করে। আমি হাঁ হয়ে তাকিয়ে থাকি। আমার আর চা-সিঙ্গাড়া খেতে ইচ্ছে করে না। বরং বিরক্ত হয়ে উঠি। উশখুশ করি। আমার ছটফটানিতে মেঘ-বৃষ্টি মজা পায় এইবার। বাতাসের সাথে দুলে দুলে ঝরে। বিরক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে। উঠে গিয়ে জানালার পাল্লা খুলে দেই। দমকা হাওয়ার ঝাপটায় ভিজে যায় মুখ। আর আমি নিথর হয়ে আটকে যাই বৃষ্টিকেন্দ্রিকতায়।
সারাদিনের কাজ আটকে থাকে অবশ হয়ে। আমার কিছুই করা হয়ে ওঠে না। কিছুই না করার মধ্যে জেগে উঠতে থাকে সমস্ত বিচ্ছিন্নতার উন্মাদনা। দেখাদেখি দিনটাও আমাকে অনুসরণ করে। অন্য অন্যন্তরের দিনের মতো লোকায়ত নাগরিকতায় বুড়িয়ে বুড়িয়ে সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে সন্ধ্যা হয়ে যায় না সে। ঘড়ির কাঁটায় অসংজ্ঞায়িত হয়ে পড়ে ধূসর খোলসে। কিন্তু খোলসবন্দী মানুষ টের পায় তার লুকিয়ে থাকা একসময়। বৃষ্টিও হয়তো ঢুকতে পারে না সেই খোলসে। কিন্তু অযথাই মানুষ ভাবনায় পড়ে। বৃষ্টিকে গালাগাল করে। রঙবেরঙ এর ছাতা দিয়ে আকাশের সাথে আড়ি পাতে। অবারিত বিশাল আকাশের চাইতে একটূকরো ছাউনি, রিকশার হুড, কাচবদ্ধ বাসের ছাদ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকাংক্ষিত হয়ে ওঠে। আর আমি নির্লিপ্ত হয়ে অনাকাংক্ষায় ভুগি। ভুগে ভুগে কোত্থেকে একটা পলিথিন যোগাড় করি। সাধের মোবাইল টা বাঁচাতে হবে তো। নিজের স্বার্থেই জগতকে টেনে পকেটে পুরে পলিথিনে মুড়ে ফেলি। আশপাশের কিছু চোখ ধারেকাছে কোনো গাছই না পেয়ে কপালে ভ্রুর উপরে উঠেই বসে পড়ে। আমি দেখি না। চেনা পথে নেমে পড়ি আরও আরও অচেনা হতে। কিংবা মেঘ-বৃষ্টির মুখোমুখি হতে।
সামনে রাস্তা পার হতে হবে। দাঁড়িয়ে আছি গাড়িগুলো দাঁড়ানোর অপেক্ষায়। চাকাগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যাচ্ছে বৃষ্টি মাড়িয়ে। কিছু কিছু আবার সহ্য করতে না পেরে ছিটকে দেয় পাশে। ফোঁটাগুলো লাফিয়ে গিয়ে পড়ছে তখন আরেক চাকার কাছে, সেখান থেকে আবার উষ্টা খেয়ে আরও পথের ধারে। একসময় ড্রেনে গিয়ে গড়িয়ে পড়ে হাঁফ ছেড়ে। আমি দেখি আর হাসি। বাবারা, উপরে ছিলা, ভালো ছিলা। এখন নিচে এসে ছিলা খাচ্ছো। কেমন লাগে? বৃষ্টি আবার দলবদ্ধ। এক দলরে টিটকারি করায় আরেকদল ঝমঝম করে মাথায় আছড়ে পড়ে। চোখের পাতা বেয়ে নেমে আসে, আমার চোখ বুজে যায়। যেনো আমাকে দেখতে দিবে না। কিংবা আমাকে সাজাচ্ছে দুনিয়ার সামনে এমনভাবে যেনো ওদের দুঃখে আমি কাঁদছি আর আমার চোখ গলে পানি পড়ছে। কী তামশা!
হঠাৎ সম্বিত ফিরে দেখি আমার মাথার দিকে পেছন থেকে কে যেনো ছাতা ধরেছে। খোলসবন্দী মানুষের মতো স্বভাবতই আমার ধারণা হয়, পরিচিত কোনো কলিগ। কিন্তু ফিরে দেখি মধ্যবয়ষ্ক অচেনা এক ব্যক্তি। অভিব্যক্তিতে বিস্ময় ফুটে ওঠে হালকা। কিছু বলার আগে চারপাশে ভালো করে চেয়ে নিই। আমাকে ঘিরে আরও মোটামুটি পাঁচ-ছয়জন দাঁড়িয়ে, আমি ছাড়া সবার কাছেই ছাতা। এমনকি কিছু দূরে অন্যান্য যারা হেঁটে চলেছে কেউই ছাতাছাড়া নয়। যাদের কাছে ছাতা নাই তারা ধারেকাছে কোনো বিল্ডিং এর নিচে অপেক্ষা করছে বৃষ্টি থামার। একমাত্র ছাতারমাথা আমিই ছাতাছাড়া উজবুকের মতো দাঁড়িয়ে ছ্যাঁতছ্যাঁত করে বৃষ্টির ছিটকে পড়া দেখছি। হঠাৎ প্রচন্ড হাসি আসে। সামলে নিয়ে সেই ভদ্রলোককে বলি, থাক, থাক, আপনার কষ্ট করা লাগবে না, আমি এমনিতেই ছাতা ছাড়া বের হয়েছি। তিনি বলেন, বাবারে, এই বৃষ্টিতে বড়োই কষ্ট মানুষের। নাও, আমার কোনো সমস্যা নাই, তলে দাঁড়াও। মনে মনে বলি কষ্ট করেই তো বের হলাম বৃষ্টিতে মানুষের কী কষ্ট অথবা বৃষ্টির কষ্ট কী তা দেখতে। মুখে ফোটে, না থাক, আপনাকে ধন্যবাদ; আমি ভিজবো জেনেই বের হয়েছি। এইবার তিনি হালকা বিস্মিত হোন। হালকা দ্বন্দ্বেও পড়ে যান। ছাতা সরাবেন কি সরাবেন না এই ভাবনায় বোধহয়। কারণ আমি লক্ষ্য করি তার হাত নড়ছে কিন্তু ছাতা আমার মাথার উপরেই হালকা চক্কর দিচ্ছে। সৌজন্যতার খাতিরে আরও কিছু কথা হয় উনার সাথে, কী করেন, রাস্তার ওইপারে কেনো যাচ্ছেন এইসব আরকি। পরে বৃষ্টির মধ্যে নিজেদের পথে পা বাড়াই। বৃষ্টি আমাকে কষ্ট দেয় না। বরং অতি অল্পতেই চিনিয়ে দেয় একজন প্রকৃত মানুষকে হয়তো। যা আমি বহুদিন দেখিনি, এমনকি নিজের মধ্যেও কখনও। যা আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে অনেকক্ষণ, হাঁটতে হাঁটতে।
হাঁটতে হাঁটতে আমার অস্বস্তি লাগে হঠাৎ। চারপাশের ছুটে চলা মানুষগুলোকে প্রায়শই দেখি আমাকে লক্ষ্য করতে। অস্বাভাবিক কিছু ঘটলো নাকি। আপাদমস্তক দৃষ্টি বুলাই। বৃষ্টিতে চুপসে যাওয়া কাপড়ে ঢাকা আপনছায়ার এই অবলম্বন ছাড়া কিছু নজরে আসে না। বৃষ্টিতে কি আমি অসম্পূর্ণ? ছাতাছাড়া? নাকি আমাতে বৃষ্টি অসম্পূর্ণ ঠেকছে? মেঘ-মৃত্তিকার মিলন যোগসাজশে আমি দিকভ্রান্ত উদ্বাস্তুর মতো অপ্রত্যাশিত নাকি? একটূ ভাব নিই চোখেমুখে। আশেপাশে রিকশা খোজার ভান করে করে হাঁটি কিছুক্ষণ। একটু পরে আবার সব আগের মতো। সামনে, পেছনে শত-সহস্র বারিকণা মাটিতে কিংবা রাস্তায় আছড়ে পড়ে ফেটে যাচ্ছে অবিরত। সেগুলোর কিছু মাড়িয়ে মাড়িয়ে পদচিহ্নে প্রশ্বাসের অভিলাষ জেগে থাকে অনবরত সামনে থেকে আরও সামনে। আর নিজেকে ধরে ধরে আমি এগুতে থাকি। বৃষ্টিতে সবই ভিজে, শুধু নিজেকে দেখি শুকিয়ে যেতে, বহুরাত্রির জীর্ণ ঘুম ভেঙ্গে প্রত্যহ জেগে ওঠা ক্ষতগুলো থেকে।
শাহবাগে বই কিনতে ঢুকি ভেজাকাক হয়ে। দোকানির মুখে আহা-উহু ফুটে ওঠে আমার জন্যে কল্পিত কষ্ট নিবারণে। তার করুণা দেখে আমারই মায়া লাগে তার জন্যে। মনে হয়, না হয় তার জন্যে একটু উনুনে গা ঝালিয়ে আসি চামড়াছিলা মুরগির সাথে গ্রিল বানানো মেশিনে। কিন্তু আগুনের তাতে ভয় না লাগলেও যেই দন্ডটায় মুরগি আটকানো থাকে তা ভেবে আমার আত্মারাম বৃষ্টিছাড়া হয়ে যায় তৎক্ষণাৎ। দোকানিরে মনে মনে কই, আহা-উহুর দরকার নাই। টাকা নেন, বই দেন। আমি ভাগি।
বৃষ্টির বেগ বাড়ে-কমে। আমার হাঁটা নড়েচড়ে না। একমনে একইরকমভাবে চলতে থাকে। শহীদমিনার চক্কর খেয়ে নিজের অজান্তেই শাহবাগে ফেরত আসি আবার। আড্ডার অন্যতম কেন্দ্রস্থলের নিয়মিত সদস্য হবার অপরাধে তারেক খামাখা গালি খায় বৃষ্টিভরা। বেচারা তখন চায়ে চুর হয়ে চুপচাপ বসে আছে। লোকায়ত দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রকিবও গালি খায় নিজের অজ্ঞাতেই। বলদ, দাওয়াত দেবার আর দিন পাইলি না? আবু পুরান ঢাকায় ভুড়ি দুলিয়ে সান্ধ্য মুড়ি খায় সেই সময়ে। আর আমি, আমার পলিথিন, অফিসের ব্যাগ, জামাজুতা মিলে উদ্দেশ্যময় নিরুদ্দেশ!!! যদিও সেই উদ্দেশ্যের কোনো অভিপ্রায় নেই বললেই চলে।
একঝাঁক বৃষ্টির দলাইমলাই মেখে এইবার নীড়সন্ধানী হয়ে উঠি নীরপুঞ্জের ঝালরে। রিকশায় উঠি। হাতিরপুল থেকে মোহাম্মদপুর। রিকশাওয়ালা প্রবীণ, মাথায় পলিথিন প্যাঁচানো। আমি উঠার পর মাথা থেকে খুলে দিতে চান। উলটো আমি রিকশার হুড নামিয়ে দেই। তিনি হালকা থতমত খান। যাত্রা শুরু হয়। ঘরে ফেরা। কিংবা ঘোরে ফেরা। এইবারও রাস্তা, রাস্তার গাড়ি, রাস্তার মানুষ চোখ তুলে তাকায়। বৃষ্টির মধ্যে খামাখা একটা রিকশার হুড খোলা থাকবে, এটা কারও সমীকরণে আসে না। খানাখন্দে বিরক্ত হয়ে রিকশাওয়ালা রাস্তারে ঠ্যাঙ্গায়, সরকার বদল করিস, নিজে বদলাস না ক্যান?
আমি শুনে হাসি। আমাকে বলেন তিনি, শুধু রিকশাভাড়া চেয়েছেন, বৃষ্টিভাড়া চাননাই। বৃষ্টিভাড়া দেয়া উচিৎ না? আমি বলি, কেন? বলেন, এই যে কষ্ট করে রিকশা নিয়ে আরেকজনকে টেনে নিয়ে যাওয়া বৃষ্টির মধ্যে, বৃষ্টিতে তো কতো অসুখ-বিসুখ হয়। তাছাড়া গরীব তো বটেই, উপরন্তু বৃদ্ধ মানুষ তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। আমি বলি বৃষ্টিতে তো আরও ভালো হবার কথা, যে গরম ছিলো কয়েকদিন, এখন তো ঠান্ডা আমেজে চালাতে পারছেন। কথা আর আগায় না তেমন। তিনি শুধু বলেন, মামা, বুঝেন নাতো। আমি ভাবি, আমি আসলেই বুঝি না, বুঝি নাই, হয়তো বুঝবোও না। বৃষ্টিতে মানুষের কষ্ট কিংবা বৃষ্টির কষ্ট। শুধু ভিজতে চাই, ভিজি। এর কোনো কি মানে আছে? উত্তর পাই না। অবশেষে আমার গন্তব্য চলে আসে একসময়। রিকশাওয়ালা লজ্জামিশ্রিত স্বরে হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলেন, আর দশটা টাকা দিয়েন মামা, বৃষ্টির দিন। হাঁপিয়ে উঠছি, দুই কাপ চা খাবোনে। আমি সেই মুখে তাকাই না। হাতে নোট ধরিয়ে বলি, আপনার বৃষ্টিভাড়াও পুরোটা দিলাম। আর কিছু শোনার আগেই দৌড় দেই প্রায় গেটের মধ্যে। শুধু বৃষ্টিটাকে অন্তত ধরে রাখতে চাই নিজের মধ্যে। বৃষ্টির সাথে ভেসে চলা কিংবা ধুয়ে চলা কোনো মানুষের কষ্টটাকে না। পেছন থেকে অস্পষ্ট একটা স্বর ভেসে আসে তবুও, আর তাতে আমি বুঝে ফেলি, টাকা দিয়ে আমি কিছু অপ্রত্যাশিত কৃতজ্ঞতা কিনে ফেলেছি। আমার শরীরটা কেঁপে কেঁপে ওঠে হিমেল ছটায়। এইবার বৃষ্টিতে মানুষের কষ্ট আর বৃষ্টির কষ্ট উভয়েই জেঁকে বসে থরথর করে।
(২৯/০৬/২০১১)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন