বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

বৃষ্টিপ্রলাপ

ঘুমভাঙ্গা চোখে জেগে উঠে চেয়ে থাকা স্থবিরতা ফিকে হয়ে আসে রোজনামচায় সকালের বার্ধক্যে। কিন্তু ঘুমকাতরে বিবশ আভায় আয়না দেখেনা আজ হঠাৎ অনিচ্ছার কোনো পড়ন্ত ছায়া। প্রতিদিনের অদেখা ঊষায় হঠাৎ তার অপেক্ষার রেশ থেকে যায় কেনোজানি মৃদুমন্দ হাওয়ার দোলুনিতে জানলার চাদরে কিংবা গাছের সবুজ পাতায়। ভ্যাবাচেকা খেয়ে ঘোরের অনুভবে তুলোমেঘগুলো আরও কালোকালো হতে থাকে কোনো পথের দিশা না পেয়ে। আকাশের সব নীল রঙ হারিয়ে কোনো এক অজানা আবেগে বিন্দু বিন্দু স্বচ্ছতায় ঝরে পড়তে থাকে গুড়িগুড়ি। লোকায়ত দৃষ্টিতে ফুটে ওঠে বিরক্তির ছাপ পদে পদে রঙবেরঙ এর ছাতার তলে। ইলেকট্রিক তারে ঝিমমেরে বসে থাকা কাকের লেজে ফোঁটায় ফোঁটায় জমতে থাকে নিয়মের ব্যতয়। সময়ের রঙটা বিমর্ষ হয়ে ওঠে আবছা আধোছায়ায় প্রচ্ছায়ার প্রতিরূপে। দেখা অদেখার বিভেদতল ভেদ করে সিক্ত হয়ে ওঠে দৃষ্টির পরিসীমা চতুর্দিকে। দূর অদূরের সমস্ত বেঁধে দেয়া দূরত্ব ছেয়ে যায় কল্পনার ভাস্কর্যে। একসময় ঝমঝম করে নেমে আসে পৃথিবীর পথ ধরে জানলার গরাদে অগুণতি স্নিগ্ধ নীরপুঞ্জ। ভিজে ভিজে চারপাশ সময়কে নিয়ে সময়ের সাথে গড়তে থাকে কালোত্তীর্ণ কিছু অনুভূতি। ভাষাগুলো হারিয়ে হারিয়ে নৈশব্দের ঝংকার তোলে ক্রমশ প্রকৃতির প্রতিবিম্বে, অবর্ণনীয় কিছু অপার্থিবতায়।

(২৬/৬/১১)

কোন মন্তব্য নেই: