বহুমধ্যরাত পেরিয়ে এখন আবার বের হই অন্তর্লীন রাত্রি দেখতে...স্বপ্নগুলো জানলা দিয়ে ডিমলাইটের আলো অনুসরণ করে উঁকি মেরে চেয়ে থাকে ঈষৎ বাতাসের কম্পনে... অন্ধকার সরিয়ে সরিয়ে রাত্রিকে দেখি, আজকের কিংবা বহু আলোকবর্ষ আগের কোনো অস্তিত্ব ধীরে ধীরে সত্ত্বা গড়ে তোলে, একি শুধুই সময় না শুধু অনুভূতি যা ফিরে আসে বারবার না ফেরা সকল পদচিহ্নের স্বাক্ষর নিয়ে? আমি কিছু না ভেবে নির্বাক চেয়ে দেখি শত-সহস্র-লক্ষ-কোটি আমায় ইতস্তত স্পন্দনরত, আমার চারপাশে, একি সময়ের ব্যবধান না অনুভুতির ব্যবচ্ছেদ তা নির্ণয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায় রাত্রির নির্ঘুম নীরবতা...অসাড় পথরেখা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেও টের পায় না সকল সভ্যতা গুড়ো গুড়ো হয়ে মিশে গেছে এক একটি শ্বাসের ওঠানামায়। সময়কে ছিড়ে তিন টুকরো করে করে ক্রমাগত নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এক একটি প্রহর, ছিন্নভিন্ন অস্তিত্বের আড়ালে বিচ্ছিন্নভাবে যেসব অনুপস্থিতি দৃশ্যমান, সেখানে থৈ হারিয়ে ভেসে ভেসে হারিয়ে যায় সাগরের ঢেউ এর তালে, আমরা মানে সকল আমি একসঙ্গে ঢেউ এর হারিয়ে যাওয়া দেখি, রাত্রি আর আকাশ যেখানে গিয়ে মিলেছে।
(১৪-০৭-১১)
অপভ্রংশ
অস্পষ্ট ঘ্রাণে নিঃশ্বাস হারায় অসীমে, প্রতিমুহূর্তে নিজেকে অপসৃত অথবা অপসারণ করে। অথচ সীমাহীন নীলে অবরুদ্ধ গগণ আধার বিশালতার সংজ্ঞায় নিজেকে নিয়মিত কিংবা নির্ধারিত করে ফেলে নিত্যই। চেয়ে চেয়ে দৃষ্টি নিবিষ্ট হয়ে থাকে অব্যক্ত শূন্যতায়, আর ভবিষ্যতের বাতি জ্বেলে দর্শন খুজে খুজে সেখানে আঁধার ছাড়া আর কিছুর অস্তিত্ব টের পায় না। উপরে মেঘেদের দল কল্পনা ভাসায় অবিরত, সাদা, কালো আর ধূসর প্রভায় আচ্ছাদিত করে ফেলে অপহৃত প্রহরাদি। এইদিকে অপভ্রংশ কিছুটা স্বচ্ছ নীরে গড়িয়ে গড়িয়ে রূপান্তরিত হয়ে লোকালয়ে নেমে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে। আয়নায় কিংবা জানলাকাচে নিজের সশরীরী অনুপস্থিত অনুচ্ছায়া দেখে খুশি হয়ে ওঠে বিচ্ছেদ কিংবা বিচ্যুতির বেদনা ভুলে। বাকীটা ইচ্ছে হয়ে ঈপ্সিত থেকে যায় ভেসে ভেসে ঈষাণকোণে; শুধু পথিক নয়, পথগুলোও যেখানে দিকভ্রান্ত হয়ে একরেখায় মিশে যায়, আর মিশতে থাকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন