বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

স্মৃতিপাঠে বিদ্যাপীঠঃ আদর্শলিপির লিখনশৈলী

জড়োতা বলে যে জটবাঁধানো জবড়জং ব্যাপারস্যাপার আছে বস্তুর ক্ষেত্রে তা আমরা কম বেশি সবাই জানি। পদার্থের জন্মদোষে দুষ্ট এই গুণটা হলো, বস্তু অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ হয়ে যে অবস্থায় আছে, নিতান্ত বাধ্য বা বাধাপ্রাপ্ত না হলে সেই সুব্যবস্থার কোনো দুরবস্থা করতে চায় না নিজে থেকে। অর্থাৎ যা স্থির আছে সে খামাখা কখনো অস্থির হবে না। যে ঘোরার উপরে আছে, বলপ্রয়োগ সাপেক্ষে ঘোর না কাটানো পর্যন্ত সে বেঘোরেই ঘুরতে থাকবে। এরকম সুলিখিত সংবিধান পড়েছিলাম বিজ্ঞান বিষয়ে স্কুল-কলেজ-এমনকি ভার্সিটিতেও। কিন্তু এই জড়োতার উল্টোপিঠেও আর এক জড়োতা আছে, যাকে বলে কোনো কিছু না করার বা আলসেমির জড়োতা। আর এইটা এখন আমার দৈনন্দিন জীবনজুড়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। পরম শূন্য উষ্ণতার মতো যদি পরম শূন্য জড়োতা বলে কিছু থেকে থাকে তবে আমি নিশ্চিত, তা এখন আমকে জাপটিয়ে জড়িয়ে রেখেছে। আমার এই লেখাতেও অবধারিতভাবে সবাই বৈচিত্র্যহীন জড়োতার বিচিত্র সব উপকরণ রয়েছে যা বিষম বিরক্তির উদ্রেক কোনোরূপ জড়োতা ছাড়াই করতে পারে।


ইদানিং আরও কয়েকধরনের জড়োতায় জরাক্রান্ত হয়ে গেছি। যেমন আকাশকুসুম কল্পনার জড়োতা, ভুলে যাওয়ার জড়োতা, বিষয়বস্তুহীন ফালতু প্যাচালের জড়োতা, মোবাইল কল রিসিভ না করার জড়োতা ইত্যাদি ইত্যাদি। সর্বশেষ সংযোজন, হাতে বাংলা লিখার জড়োতা। এমনিতেই বাংলা লেখা ছেড়েছি সেই কলেজের শেষে, এরপরে পুরো ভার্সিটি লাইফ জুড়ে যতটুকু বাংলা লিখেছি তা সর্বসাকুল্যে একটা A4 সাইজের কাগজের পুরো এক পৃষ্ঠাও হবে কিনা সন্দেহ। উপরন্ত মেহদী ভাই ষড়যন্ত্র করে অভ্র বানিয়ে বাংলা লেখার হাত শিকেয় তুলে শিকেসমেত পাঠিয়ে দিয়েছেন জাদুঘরে। অবস্থা এমন হয়েছে যে প্রিন্টার থাকার সুবাদে, বাংলায় কিছু লিখতে হলেই খটাখট টাইপ করে সরাসরি প্রিন্ট করে নিই। ফলে বাংলা অক্ষরগুলোর শৈশবে চেনা জ্যামিতিক আকৃতি এখন হাতে লিখতে গেলে মান্দারীন হরফের মতো কঠিন লাগতে থাকে।  

কিছুদিন আগে বেখেয়ালে হোক আর শখের বশেই হোক, খাতায় বাংলা লিখতে গিয়ে দেখি, অনেকটা শ্লেট-চক দিয়ে হাতে লেখা শেখার সেই শিশু বয়সে চলে গেছি। কোথায় কতটুকু কী ধরনের প্যাঁচ দিলে কোন অক্ষরের আয়তন তার পাশের অক্ষরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে সে দিকে চোখের এবং আঙ্গুলে ধরা কলমের যথেষ্ট সদিচ্ছা এবং গানিতিক মাপজোক সমীকরণ থাকলেও কেনোজানি যা বাস্তবে দেখছি তার সাথে খাপ খাচ্ছে না। টার্ম পরীক্ষার পরে দেখতাম আমার গ্রেডশীটে প্রায়ই স্যারদের সমস্ত গ্রেড নম্বরগুলোর সাইজ অনুযায়ী সুষম বন্টন হয়েছে; যদিও আমি সব বিষয়ই অধিকাংশ সময়ে একইরকম ফাটাফাটি পরীক্ষা দিতাম। তো এইখানে অক্ষরগুলোর আকৃতির বৈচিত্র্যও অনেকটা সেই পর্যায়ে চলে গেছে বলে মনে হলো। আর আমার হাতের লিখা এমনিতেই আগে থেকে, ওই যে বলে, কাকের ঠ্যাং-বগের ঠ্যাং, ওই টাইপের না হলেও যাবতীয় ঠ্যাং প্রজাতির সাথে সদৃশ। তো শুরুতে ভাবলাম, হয়তো শখ করে আস্তে লিখছি, তাই এমন হচ্ছে। জোরে লিখলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। গতি বাড়িয়ে গলায় কিছুটা টাইগার ঢেলে দিবো কিনা ভাবছি এমন সময়ে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, আমি এক লাইন লিখে ফেলেছি। কিন্তু যা লিখেছি তা আসলে কোনো ভাষারই কোনো বাক্য না, বরং পেটব্যথার রোগীর জন্যে ডাক্তারের পেসক্রিপশন বলে মনে হলো। একটু দূর থেকে তাকালে আমি নিজেই বুঝিনা আসলে কী লিখেছি। নিজের উপর রাগ উঠে গেলো চরম। আজ কী-বোর্ডের সবদিন কী কলমের একদিন। প্রায় বিশ মিনিট প্রাণান্তর ধস্তাধস্তির পরে কলম আর আঙ্গুল বাগে এলো। লেখাও তার পূর্বের স্বাভাবিক রূপে চলে এলো। কিন্তু লেখার সময় লক্ষ্য করলাম কিছু কিছু অক্ষর লিখতে কেমনজেনো অস্বস্তিকর লাগছে। অনেকটা প্রথম প্রথম কলম দিয়ে লেখার মতো।

শিশুবয়সে সর্বপ্রথম লেখার উদ্যোগ শ্লেট-চকে হয়েছিলো আমারও, কিন্তু তা কবে আজ আর মনে নেই। এমনকি প্রথম কবে কলম দিয়ে লেখা শুরু করেছি তাও মনে পড়ে না। তবে আবছা আবছা ঐ সময়ের কিছু স্মৃতি মনে আছে। শ্লেটে লেখার সময়ে চকের অর্ধেকেরও বেশি গুড়ো হয়ে নাকে চোখে আর মেঝেতে ব্যয় হতো। আমার আবার চোখে হালকা এলার্জি আছে আর ছোটকাল থেকেই চোখ ডলার বদভ্যাস আছে। তো তখন যেটা হতো, দেখা যেতো অল্প কিছু চকের কণা বাতাসে চোখে পড়লেই আমার বিরতিহীন চোখডলা সার্ভিস শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে আব্বু-আম্মু অনেক ধমকালেও তেমন লাভ হয় নাই। লেখার সময় ডান হাতে চক  আর বাম হাতে লেখা মোছার জন্যে কাপড়ের একটা টুকরো ধরা থাকতো। আর এই কারণে দুই হাতই ময়দা মাখানো হাতের মতো চকের গুড়োতে সাদা সাদা হয়ে থাকতো। এই দুই হাত দিয়ে মুষ্টি বানিয়ে সমানে ঘষে যেতাম দুই চোখ। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই চোখ লাল হয়ে নিশাচর ভ্যাম্পায়ারের মতো হয়ে উঠতো। অনেকেই মনে হয় জানেন যে, এক প্রজাতির হনুমান আছে যাদের মাথা ও মুখের পশম সাদা কিন্তু চোখের চারপাশজুড়ে প্রায় বৃত্তাকার আকৃতির কিয়দংশ কালো বর্ণের, আর চোখের মণি রক্তাভ বর্ণের। আমাকে দেখাতো ঠিক ওইরকম তবে উল্টোভাবে। আমার রক্তাভ চোখের চারপাশে সাদা বৃত্তাকার বলয় তৈরি হতো চকের গুড়োয়, অবশ্য হনুমানের মতো লাগতো কিনা সেটা খেয়াল করিনি।

শ্লেটে লেখার সময় বিভিন্ন রকম শারীরিক কসরত করতাম আমি। মূলত উপুড় হয়ে তবে শুয়ে বা হাঁটু মুড়ে বসেও লিখতাম। গ্রামের বাড়ীতে ঐসময় ঘরে টেবিল থাকলেও আব্বু আর আমি হাত-পা ছড়িয়ে মেঝেতে বসতাম। সাথে লেখার সরঞ্জামাদি; আমার শ্লেট, একটা চকের বাক্স, একটা পুরোনো ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো, বর্ণমালার বই, আর একটা হাতপাখা (বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে)। লেখার সময় ঘর্ষণ লেগে চকের একটা বিদঘুটে ধরনের শব্দ হতো। ঐটা এড়ানোর জন্যে ক্রমাগত মাথা ভেঙ্গে ভেঙ্গে কোণাকুনি ঘষতাম, এতে শব্দ একেবারে না গেলেও তীব্রতা কমে যেতো। আমি চক দিয়ে শ্লেটে প্রথম যেটা এঁকেছিলাম বা লিখেছিলাম সেটা এখনো মনে পড়ে। আব্বু আমাকে বললেন একটা লাইন টানো, স্ট্রেট লাইন মানে সরলরেখা। আমি তখন চককে তিন আঙ্গুল দিয়ে কীভবে করায়ত্ত করা যায় লেখার উপযোগী করে সেই প্রচেষ্টায় সচেষ্ট। শ্লেটটা মেঝেতে রেখে টান দিতে গিয়েই মট করে ভেঙ্গে গেলো চকের শীর্ষভাগ। চকের সেই অঙ্গহানি বৃথা গেলো না, তবে লাইন টানার পরে তা সরলরেখা না হয়ে জমির আইল এর মতো আঁকাবাঁকা আর অসংজ্ঞায়িত জ্যামিতিক আকৃতির হয়ে নিজেকে জাহির করলো। আব্বু দেখে আমার হাত থেকে চক নিলেন। এরপরে শ্লেটের উল্টোপিঠে ঠিক আমার মতো করেই একটা টান দিলেন। আমি প্রথমে আরেকটা মট এর জন্যে অপেক্ষা করলাম। কিন্তু সেরকম কিছু হলো না। বরং আমি কিছুটা বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলাম, শ্লেটে প্রায় নিখুঁত একটা সরলরেখা সাদা হাসি দিয়ে সেঁটে আছে। আমি ভেবে পেলাম না, আমার হাতও বাম থেকে ডানে গেলো, আব্বুরটাও। কিন্তু কেমনে কী?

কতবারে প্রথম সফল হয়েছিলাম তা মনে নাই। আর অক্ষর শেখার কাহিনি বলতে গেলে উপন্যাস হয়ে যাবে। গণিতের ‘০’ লিখতে গিয়ে কতবার যে শ্লেটের চতুর্দিকে ঘুরে ঘুরে চক্কর খেয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। ‘ক্ষ’ লিখতে গিয়ে কত চকের কোমর ভেঙ্গে গেছে তার হিসাব নেই। এরকম অনেক মর্মান্তিক এবং প্রায় মরমর শ্রম ইতিহাস জড়িত এই শিক্ষার দীক্ষাতে। কিন্তু এই চকে লেখার ক্ষেত্রে দুইটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি। এক, প্রথম প্রথম লেখার সময়ে প্রায় পুরো শ্লেট জুড়েও একটি অক্ষরের জন্যে জায়গা সংকুলান করা কঠিন মনে হয়। যেটা পরে যতদিন যেতে থাকে, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর দুই, অক্ষরগুলো লেখার ধরনের বৈচিত্র্যতা। আব্বুর লেখাতেই এটা আমি প্রথম লক্ষ্য করি। আর তা হলো ‘ল’ লিখতে। একদিন হঠাৎ খেয়াল করে দেখি, আমি ‘ল’ লিখতে আগে ডানদিকের খাড়া টান-টা আগে দিই এবং তারপরে ল এর শুড়টা লিখি। কিন্তু আব্বু শুড়টা আগে দেন এবং তারপরে টান দেন। একইরকম লক্ষ্য করলাম প্রায় সব অক্ষরে আমি আগে মাত্রা দিই এবং তারপরে অক্ষরটা লিখি। কিন্তু আব্বু সব অক্ষরে আগে লিখে শেষে মাত্রা দেন।

এই পার্থক্যটা আরো প্রকটভাবে দেখতে পাই পরে আমার বন্ধুদের মধ্যে। আমি লিখি একরকম এবং অন্যরা অন্যভাবে, আমার মতো স্টাইলে যে কেউ লিখে না তা না, তবে আমি বা আমরা নিতান্ত সংখ্যালঘু। বাংলা ‘৯’ (উচ্চারণ লী) লিখতে আমি ডানের লেজটা পরে দিই, অন্যরা আগে ঐটা লিখে তার সাথে বামের ছোট মাথার অংশটা যোগ করে। আমি ‘০’ লিখি এন্টিক্লকওয়াইজ, অন্যেরা লিখে উল্টোভাবে। আর আমার বাংলা হরফ শিখতে সবচেয়ে কষ্ট হয়েছে বোধহয় ‘শ’। আমি কোনোভাবেই এইটার শুড়ের দুই অংশ একরকম করতে পারতাম না এবং এখনো হয় না বললেই চলে। আবার ‘স’ লেখার সময় বেশিরভাগকে দেখেছি বামে নিচের শুড়ের অংশ থেকে মাঝের কাটাদাগটা একটানে টেনে দিতে। আমি এইটা আগে পারতাম না, আলাদাভাবে দিতাম। এখন কিছুটা অভ্যস্ত হয়েছি। এছাড়া মাত্রার বিষয়টাতো আছেই। স্কুলে থাকতে মাত্রাতে আমি ছিলাম পুরো শব্দপ্যাকেজধারী। অর্থাৎ একটা শব্দের মাত্রা পুরোটা আগে টেনে দিয়ে তারপর অক্ষরগুলো লেখা। মাঝে মাত্রাহীন অক্ষর থাকলেও সমস্যা হতো না, টান-টা সেভাবেই দিতাম। আর এই জিনিস করেও আমার লাইন সোজা করতে রীতিমত হিম-শিম এবং গরম-পটল খেতে হতো। আমার এক স্কুলবন্ধুর হাতের লেখা অমানবিক পর্যায়ের সুন্দর ছিলো, বইয়ের টাইপ করা লেখা থেকে তার লেখা দেখতে হাজারগুণ বেশি ভালো লাগতো। খাতা দেখলে মনে হতো যেনো কেউ সারি সারি সুন্দর নকশা করে রেখেছে। অথচ সে মাত্রা তেমন ব্যবহার করতো না বললেই চলে। আমিও অনেকের মতো লেখার সময় খাতা বাঁকা করে রাখি হাতের সাথে সমন্বয় করে, কিন্তু সে খাতা সোজা রেখেই লিখতো।

যাইহোক, লেখার বৈচিত্র্যে ইংরেজি অক্ষরে তারতম্য কম ছিলো। সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় হলো ‘9’। এটা লিখতে আমি আবার গোল্লাটা ক্লকওয়াইজ দিয়ে লেজটা টানি। কিন্তু অন্যদের দেখি বিপরীতভাবে লিখে। আরেকটা এমন অক্ষর হচ্ছে ইংরেজির আট বা বাংলার ‘৪’। এটা অবশ্য দুইদিক থেকেই লিখতে দেখেছি অনেককে। আমি এন্টিক্লকওয়াইজভাবে শুরু করি এটা লেখার সময়। আমি ইংরেজি লেখা শিখেছিলাম জড়ো অক্ষরে। অর্থাৎ একটা শব্দে প্রথম অক্ষরের লেজ দিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে জিলাপির মত চক্কর খেয়ে শেষ অক্ষরে গিয়ে থামা। আর আমার সরলরৈখিক জ্ঞান ভালো (?) হওয়াতে লাইনগুলোর সারি ক্রমশ নিম্নমুখী হয়ে থাকতো। লাইন সোজা করার জন্যে দাগটানা খাতা নিলাম, কিন্তু দাগ ছাড়ার পরে যথারীতি সেই। আমার দাগ থেকে দারুণ কিছু হলো না।

জড়োতা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন গিয়ে জড়ো হয়েছি অক্ষরের লাইন সোজা করতে। আর কিছুক্ষণ থাকলে সব জড়াজড়ি লেগে যাবে। এমনিতেই এইসব হিজিবিজি আর হাবিজাবি লিখতে গিয়ে পর্বতপ্রতিম জড়োতার প্রমাণ দিয়ে ফেলেছি। তবে আসলে হাতে লেখার, বিশেষত যদি সেটা বাংলা ভাষায় হয় তবে তার একটা অন্যরকম অনুভূতি আছে। কারণ একে তো মাতৃভাষা তার উপরে এতো এতো অক্ষর, যুক্তাক্ষর আর শব্দশৈলী আর কোনো ভাষায় আছে কিনা আমার সন্দেহ। শুনেছি যে ভাষায় বর্ণ বা হরফ বেশি তার নাকি ব্যাকরণ কিংবা ঐ ভাষা আয়ত্ত করা কঠিন। এটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নাই, আমাকে তো আর আয়ত্ত করতে হচ্ছে না। আর হ্যাঁ, শেখা কঠিন হতে পারে; কিন্তু এরকম অনুভূতিব্যাঞ্জক বৈচিত্র্যময় ভাষা আর কোথায় পাবে? ভাবতেও অবাক লাগে, মাত্র দশ বছর আগেও আমার চিঠি লেখার অভ্যাস ছিলো বাসায়। এখন টাইপই করি বেশিরভাগ সময়, তাও বাংলা কম। কর্মক্ষেত্রে বা উচ্চতর শিক্ষাক্ষেত্রের প্রায় সব জায়গাতেই (একমাত্র মনে হয় সাহিত্য আর শিল্পকলা শিক্ষাক্ষেত্রগুলো ছাড়া) ইংরেজির ছড়াছড়ি। তাই হাতে বাংলা লেখার সুযোগ কমে যাচ্ছে ক্রমশ দিনে দিনে। বাকি রইলো নিজের ডায়েরী। নিজে ডায়েরী লিখি না। তাই যারা হাতে বাংলায় স্বগাথা গেঁথে রাখেন, তাদের দেখে ঈর্ষা হয়। তারা অন্তত সেই মজাটা পাচ্ছেন। এখন আমার এটা পেতে হলে ডায়েরী লিখতে হবে। এবং এর জন্যে জড়োতা মুক্তকরণ ও জড়োতা যুক্তকরণ দুই-ই দরকার।

কোন মন্তব্য নেই: